টাঙ্গাইলে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিএনপি নেতাসহ ৩৪ জুয়াড়িকে মাদক ও মাদকের উপকরণসহ আটক করা হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র জুয়া আইনে মাললা করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশের দাবি আটককৃতদের সোপর্দের সময় কোন মদক পাওয়া যায়নি বলে মাদক মামলা ও ডোপ টেস্ট করা হয় নাই।
এদিকে শহরের শতাব্দী ক্লাব সহ আরও ২টি ক্লাবে অভিযান পরবর্তী আলামতের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় তাতে দেখা যায় আটক হওয়া ব্যক্তিদের সামনে দুটি খালি মদের বোতল, সাত বান্ডিল টাকা, তেইশ সেট তাস, একটি গাঁজা কাটার যন্ত্র গ্রাইন্ডার, সাদা কাগজে উপর রাখা গাঁজা ( মরিচা) ও একটি বাক্স।
তবে এসব নিষিদ্ধ উপকরণ থাকার পরেও তাদের বিরুদ্ধে কোন মাদক মামলা রুজু না হওয়ায় জেলা জুড়ে চলছে নানা গুঞ্জন।
স্থানীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়দের অভিযোগ বলছে,ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মদের বোতল, গাঁজা ও গাঁজা কাটার যন্ত্র তবুও কেনে তাদের বিরুদ্বে মাদক মামলা দেওয়া হল না? পুলিশ অবশ্যই মাদকের বিষয়টি আড়াল করে যাচ্ছে, তাদের ডোপ টেস্ট করালেও সব বিষয় বের হয়ে আসতো। আমরা টাঙ্গাইলের জনগণ চাই কোন অপরাধীকেই যেন তার ক্ষমতার কারণে ছাড় দেওয়া না হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রভাবশালীদের বাঁচাতে ও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে শুধুমাত্র জুয়া আইনের মামলা দিয়ে অভিযুক্তদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। যার ফলে তিন ঘন্টার মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়েছেন অভিযুক্তরা৷
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ বলেন,মদের বোতল, গাঁজা কাটার যন্ত্র ও গাঁজা ছবিতে দেখা গেলেও মামলায় ও আদালতে আলামত হিসাবে দেখানো হয় নাই। ,যার কারণে আইনের পরিপন্থী হয়েছে। শহরের আরও এরকম ক্লাব রয়েছে সেই ক্লাব গুলোতে অভিযান চালানো জরুরী।
এদিকে অভিযান পরিচালনাকারী সূত্রের দাবি অভিযান কালে অন্যান্য বিষয়ের সাথে দুটি খালি মদের বতল, আটটি সিগারেট ভর্তি গাঁজা, একটি গাঁজা কাটার যন্ত্র ও কিছু পরিমাণ কাঁচা গাঁজা পাওয়া যায়। যা পুলিশের সামনেই উপস্থাপন ও হস্তান্তর করা হয়েছে।
এবিষয়ে টাঙ্গাইলের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদের দাবি সেনাবাহিনী তাদের কোন প্রকার মাদক দ্রব্য বুঝিয়ে দেননি যে কারণে কোন মাদক মামলা হয়নি ও ডোপ টেস্টের প্রশ্নই আসেনা।
একই দাবি টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আদিবুর রহমানের, তার দাবি মদের বোতলে মাদক না থাকার কারণে মামলা দেওয়া হয়নি। মাদক না পেলে কিভাবে মাদক মাদক মামলা হবে?

