টাঙ্গাইলে পুলিশ সদস্যসহ দুইজন করোনায় আক্রান্ত

টাঙ্গাইলে পুলিশের এক সদস্যসহ দুইজন নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এরা হলেন, জেলার ভূঞাপুর উপজেলার মাইজবাড়ী গ্রামের পুলিশ সদস্য ও মধুপুর উপজেলার একজন। এনিয়ে জেলায় পুলিশ, সাংবাদিক চিকিৎসকসহ করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৭৫জনে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে দুইজনের করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান।
জানা গেছে, ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাউজবাড়ী গ্রামের করোনা আক্রান্ত ওই পুলিশ সদস্য (২৮) ঢাকায় পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার বাবা অসুস্থ্য থাকায় গত ৩ মে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। এসেই তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকেন। কিন্তু তার শরীরে করোনার কোন উপসর্গ না থাকায় সম্প্রতি তিনি ভূঞাপুর গিয়ে কেনাকাটা করেন। এছাড়া গত বুধবার (১৩ মে) তার স্ত্রীসহ দুই সন্তানকে শশুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
অন্যদিকে ঢাকা থেকে ওই পুলিশ সদস্য বাড়িতে আসার খবর পেয়ে গত ১৩ মে করোনার পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয় তিনি করোনায় পজিটিভ। এঘটনায় তার বাড়িসহ আশপাশের ২টি বাড়ি ও একটি দোকান লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন।
এদিকে মাইজবাড়ী গ্রামে পুলিশ সদস্যের করোনা নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের রাসেলের সাথে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক খোরশেদ আলমের সাথে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে খোরশেদ আলম আহত হয়েছে। পরে খোরশেদ আলম ভূঞাপুর থানায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা: মহীউদ্দিন আহমেদ বলেন, গত বুধবার উপজেলায় ৩০জন ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে মাইজবাড়ী গ্রামের ওই পুলিশ সদস্যের করোনা পজেটিভ এসেছে। এ নিয়ে উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৮ জনে। এরমধ্যে ৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এঘটনায় আক্রান্তের বাড়িসহ আশেপাশের আরো দুইটি বাড়ি ও একটি মনোহারি দোকান লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।