মধুপুরে খাদ্য সংকটে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২০
লোকালয়ে বন্যপ্রাণী

জাহিদুল কবির, মধুপুর প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর খাদ্যের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বনে খাবার না থাকায় খাবারের আশায় বন্যপ্রাণী ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনা আর তীব্র খাদ্য সংকট থাকায় দীর্ঘদিনেও প্রাণীগুলোর বংশ বৃদ্ধি হচ্ছে না। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও খাবারের জন্য সরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ থাকলেও বন্যপ্রাণীগুলো খাবার না পেয়ে বনের বাহিরে লোকালয়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে অনেক প্রাণী সড়ক দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে মারা যাচ্ছে। আবার অনেক প্রাণীকে মানুষ শিকার করে খেয়ে ফেলছে। ফলে বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দাবি বন্যপ্রাণীদের খাবার দেয়া হয়। তবে প্রজনন বৃদ্ধির চাইতে নানা কারণে বেশি মারা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনেও কেন বংশ বৃদ্ধি হচ্ছে না এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ক্ষতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চল দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল হিসাবে পরিচিত। এই বনাঞ্চল এক সময় বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ছিলো। এই বনেই বাঘ, সিংহ, হাতিসহ নানা প্রজাতির প্রাণী থাকলেও এখন আর দেখা মেলে না। প্রভাবশালী আর অসাধু বন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বনখেকোরা নির্বিচারে বনের শাল, সেগুন ও গজারি গাছ কেটে বন দখল করে কৃষি জমি ও বসতবাড়ি নির্মাণ করেছে। ফলে বন্যপ্রানীদের প্রাকৃতিকভাবে তীব্র খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। আবার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার বরাদ্দ থাকলেও তা না পাওয়ায় তারা লোকালয়ে চলে যাচ্ছে। এতে বন্যপ্রাণীরা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। পাশাপাশি শিকারীদের হাতে ধরা পড়ছে। ফলে বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী শূণ্য হতে দেখা যাচ্ছে। বন এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় সুদৃষ্টি কামনা করেছেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় বনে বাঘ ভাল্লুক থাকলেও বনে মানুষের বসবাস বেড়ে যাওয়ায় এবং প্রাকৃতিকভাবে খাবার সংকট থাকায় প্রাণীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দাবি, বন্য প্রাণীদের খাবার দেয়া হয়, কিন্তু প্রজনন বৃদ্ধির চাইতে নানা কারণে বেশি মারা যাচ্ছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান, এগুলো ন্যাচারাল ডেথ, যে হারে বাড়ার কথা সেভাবে না বাড়লেও এটা বাড়ছে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণী রক্ষায় সরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে বরাদ্দ রয়েছে। তারপরও কেন খাদ্য সংকট এবং বংশ বৃদ্ধি হচ্ছে না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারের অর্থ বরাদ্দ সঠিকভাবে এখানে ব্যয় হয় কিনা তা আমরা খতিয়ে দেখব। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী মধুপুরে ৩০ হাজার একর বনভূমিতে হরিণ প্রজনন কেন্দ্রে ৬০টি হরিণ, ১শতটি মায়া হরিণ, সহস্রাধিক বানর, ৩ শতাধিক হনুমানসহ ১৭ প্রজাতীর বন্যপ্রাণী রয়েছে।