বঙ্গবন্ধুর জন্ম শর্তবার্ষিকীতে পরম শ্রদ্ধার্ঘ্য

মুজিব তোমার জন্য বিশ্ববাংলা ধন্য

প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২০
বঙ্গবন্ধুর জন্ম শর্তবার্ষিকীতে পরম শ্রদ্ধার্ঘ্য

আজ ঐতিহাসিক ১৭ মার্চ- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। বিশ্বমানবতার মহান নেতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি, শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বলিষ্ঠ কণ্ঠ- বহু বিশেষণে অভিষিক্ত বিরল ব্যক্তিত্ব। তার দেশপ্রেম অতুলনীয়। তিনি নির্ভীক মুক্তকণ্ঠ, তিনি অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে আপোষহীন। তিনি প্রথমত বাঙালি জাতিকে দেশপ্রেমের দীক্ষা দেন, তাদেরকে সংগঠিত ঐক্যবদ্ধ করেন। তারপর পাকিস্তানি জালেম শোষকদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষের জনসমুদ্রে ঘোষণা করেন- “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি জাতিসংঘ বিশ্ব ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকবাহিনী তাকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। সেই রাতে ঢাকাসহ সারাদেশে নির্বিচারে হত্যা, অগ্নিসংযোগ লুটপাটের মাধ্যমে নারকীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে। বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে, বঙ্গবন্ধুর নামে শুরু করে প্রতিরোধ যুদ্ধ। তারপর মাত্র নয় মাসের সশস্ত্রযুদ্ধে পাক বাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে স্বাধীনতার বিজয় অর্জন করে। বিজয়ের পর পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম ও বাঙালি জাতিকে শান্তিবাদী সংগ্রামী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার রক্ত ও আদর্শের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন, বাঙালিকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, বাংলা ভাষা সাহিত্য-সংস্কৃতি বিশ্ববাংলায় পরিণত হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সকল জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামে, অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু উজ্জ্বল নক্ষত্র, তার সংগ্রাম ও অবদান বিশ্বের জন্য অনুসরণযোগ্য প্রেরণার উৎস। তিনি বঙ্গবন্ধু ও বিশ্ববন্ধু খেতাবে অভিষিক্ত ও নন্দিত। সেই বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে আমরা নত শিরে জানাই পরম শ্রদ্ধা। অকুণ্ঠচিত্তে ঘোষণা করি- মুজিব, তোমার জন্য বিশ্ব বাংলা ধন্য।