টাঙ্গাইলে সামাজিক বনায়নে কোটি টাকার গাছ লুট

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০
সামাজিক বনায়নে কোটি টাকার গাছ লুট

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সামাজিক বনায়নে কয়েক কোটি টাকার গাছ হরি লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে বনায়নে প্রায় লক্ষাধিক গাছ চুরি করে কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ছয় কোটি টাকা। কাটার সময় একাধিকবার উপকারভোগীরা অভিযোগ করলেও তা আমলে নেয়নি বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। কিছু অসাধু প্রভাবশালী ও বন বিভাগের কর্মকর্তার যোগসাজোশে এসব গাছ কাটা হয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা। গাছ কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় একাধিক ব্যক্তির নামে মিথ্যা মামলা করেছে বন বিভাগ। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৯-১০ সালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বন বিভাগের ঝড়কা বিটের আওতাধীন প্রায় ৪৫ হেক্টর বনভূমিতে চুক্তিভিত্তিক ১০ বৎসর মেয়াদের বৃক্ষ রোপণ করেন স্থানীয় ১২০ জন উপকারভোগী। ধলাপাড়া রেঞ্জ এর তথ্যানুযায়ী জানা যায়, ঝড়কা বিটের অধিনে ৪৫ হেক্টর বনভূমিতে ১৭০টি প্লট রয়েছে। একটি প্লটে আনুমানিক ২,০০০ করে গাছ থাকে, যার মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী গাছ বিক্রির ৪৫% উপকারভোগীরা পেয়েছে থাকেন। এ লক্ষে উপকার ভোগীরা প্রায় লক্ষাধিক বিভিন্ন প্রজাতির জাতীয় বৃক্ষ রোপণ ও লালন-পালন করেন । ২০২০ সালে বনায়নের প্রায় ৩ লক্ষাধিক গাছ কাটার জন্য উপযুক্ত হয়ে উঠেছিল। একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ এই গাছগুলো কেটে নিয়ে বন উজার করা হয়েছে, অন্যদিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উপকারভোগীরা আশায় ছিলেন তারা সামাজিক বনায়নের গাছ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি হলে তারা কিছুটা লাভবান হবেন। কিন্তু গাছ গুলি চুরি হয়ে যাওয়ায় তারা হতাশ। অজ্ঞাত কারণে উপযুক্ত গাছ চুরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। বিশেষ করে সাতকুয়া, মালাজি, কোচক্ষিরা অঞ্চলে পুরো বাগানের গাছ চুরি হয়েছে জানান উপকারভোগীরা। তারা আরো জানান, এসব গাছ চুরি হওয়ার পিছনে স্থানীয় প্রভাবশালী ও বন বিট কর্মকর্তা ও চোরদের সাথে আতাত রয়েছে। শুধু রাতের আধারে নয় দিনের বেলায়ও এসব গাছ কাটা হয়েছে। নাম না জানা শর্তে একজন বলেন, খোরশেদ নামে একজন ডাকাত রয়েছে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা এসব গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। খোরশেদ ডাকাত এতটাই ভয়ঙ্কর যে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। তার সন্ত্রাসী বাহিনী ও বিট কর্মকর্তাদের সাথে আতাত করে এসব গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। শুধু খোরশেদ ডাকাত নয় এর সাথে যুক্ত রয়েছে, সামাজিক বনায়নের ঝড়কা বিটের সভাপতি আক্তার হোসেন, শহিদ। আর এদের সাথে যুক্ত রয়েছেন কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা। তারা এতটাই প্রভাবশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাড়িঘরের উপর হামলা চালায়। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, সাতকুয়া গ্রামের উপকারভোগী শরীফুল ইসলাম (ছদ্দ নাম) বলেন, আমি একজন নীরিহ মানুষ। সরকার আমাকে সামাজিক বনের প্লট দিয়েছে গত ১০ বছর ধরে গাছ পরিচর্যা করে বড় করেছি, এখন বিক্রি করার সময়, কিন্তু দুর্ভাগা কপাল একটি গাছও নাই, সব শেষ করে দিয়েছে। একটিও গাছ নাই, সব লুট করে নিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, উপকারভোগী জাহিদুর রহমান বলেন, এত টাকা খরচ করে প্লটে গাছ লাগালাম কিন্তু একটি পাতাও নিতে পারলাম না। পুরো এলকায় একটি গাছও নাই। সব চোখের সামনে চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। উপকারভোগীর হারুন বলেন, দিনের বেলায় যখন গাছ চুরি করে আমরা অনেক বাধা দিয়েছি। কিন্তু শুনেনি বরং আমাদের উপর খোরশেদ ডাকাতের সন্ত্রাসী বাহিনী আক্রমণ করেছে। বন কর্মকর্তাদের কাছে গাছ চুরির বিষয়ে অভিযোগ দিলে, তারা আমাদের উল্টো গাছ চোরের মামলা দিয়েছে। শুধু খোরশেদ ডাকাত বাহিনী নয় এর সাথে ঘাটাইলে কিছু ছাত্রলীগের নাম ধারী নেতা রয়েছে। যারা পুরো পাহাড়ী অঞ্চলে গাছ লুট করে নিয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল্লা সাপ্তাহিক জাহাজমারাকে বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ অনেকটাই চুরি হয়েছে। যারা চুরি করেছে তারা এতটাই সংঘবদ্ধ যে তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। এ আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছি, অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে টাঙ্গাইল বন বিভাগ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, আমি কিছুদিন যাবৎ যোগদান করেছি। আমি শুনেছি ঘাটাইলে ঝড়কা বিট অঞ্চলে ৪৫ হেক্টর বনভূমির সামাজিক বনায়নের গাছ ব্যাপক চুরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই বনের যারা গাছ চুরির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঘাটাইল ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।