ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বাসা বরাদ্দের নামে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাসা বরাদ্দ দেয়ার নামে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এর সাথে সরাসরি জড়িত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বা¯’্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুর রহমান খান ও হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে দিনের পর দিন এ অনিয়ম ও দুর্নীতির চলতে থাকলেও দেখার কেউ নেই। তাদের এ অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা । মূলত তাদের কু-পরামর্শেই যত অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়ে আসছে। সরকারী বিধি মোতাবেক হাসপাতালের এ সব কোয়াটার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতূর্থ শ্রেনীর কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ থাকলেও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর অনেক কর্মকর্তা, কর্মচারীরা এখানে না থেকে তাদের নিজ নামের বরাদ্দ বাসাগুলো অন্যদের কাছে সাব লেট ভাড়া দিয়ে সুবিধা গ্রহন করছেন। তারা নানা অযুহাত দেখিয়ে হাসপাতাল ক্যাম্পাসের বাহিরে বাসাভাড়া নিয়ে, কেউ বাড়িতে থেকে অফিসে আসা যাওয়া করছেন। অথচ সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে এ সব কোয়ার্টার তৈরি করেছেন যাতে করে হাসপাতালে অব¯’ান করে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবার নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারেন।অথচ সরকারের এই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কেউ বাড়িতে থেকে অফিসে এসে অনিয়মিত ভাবে দায়সারা দায়ত্বি পালন করে যাচ্ছেন। সরকার ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যেখানে বাধ্যতামুলক করেছেন, সেখানে ঘটছে তার উল্টো চিত্র। এতে এক দিকে যেমন রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছেন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। সরকারের কোয়ার্টার গুলো নিয়ে চলছে রীতিমতো হেয়ালিপনা। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারিরা পুরো ইউনিট গুলো নামে বে-নামে বছরের পর বছর ধরে ভোগ করছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালে মোট বিল্ডিং আছে ৫ টি। ২ টি বিল্ডিং রয়েছে ১ম শ্রেনীর কর্মকর্তাদের নামে। অপর ২টি বিল্ডিং ২য় শ্রেনীর কর্মচারীদের জন্য। আর বাকিটি ডরমেটরী। প্রথম শ্রেনীর যে ডরমেটরি ছিল সেটা বর্তমানে যক্ষা ও কুষ্ঠ রোগীদের জন্য হাসপাতাল হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর হাসপাতালের টিএস এর জন্যে বরাদ্দকৃত প্রথম শ্রেনীর বাসাটি যুগ যুগ ধরে অপরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর বিল্ডিং ২ টিতে ইউনিট আছে ৭টি করে মোট ১৪টি। তৃতীয় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের বিল্ডিং ২ টিতে ইউনিট আছে ৬টি ও একতলায় ২টিসহ মোট ৮টি। আর ডরমেটরিতে ইউনিট ৩টি। মোট ২৫ টি বাসা (ইউনিট) রয়েছে। এ সব বাসার মধ্য কাগজে কলমে ১৩ টি বাসা তৃতীয় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে ১ম ও ২য় শ্রেনীর কর্মকর্তা কর্মচারীদের নামে বরাদ্দকৃত বাসাগুলোতে বসবাস করছেন হাসপাতাল ও বাহিরের চাকুরীজীবীরা। অথচ তাদের নামে এ সব বাসা বরাদ্দ নেই। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসপাতালের ক্যাম্পাসে না থাকায় তিনি সরকারী বাসাগুলো সমঝোতার মাধ্যমে নামমাত্র ভাড়ায় বসবাসের সুযোগ করে দিয়ে আসছেন । ফলে সরকার হারা”েছ বিপুল পরিমান রাজস্ব আর অপর দিকে রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে ধ্বংস হয়ে যা”েছ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারী নির্মিত এসব সম্পদ। এমন উদাসীনতার কারণ খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন আমাদের টিএস স্যারতো ঢাকা থেকে এসে অফিস করেন, আর হাসপাতালে ২৪ ঘন্টার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মোঃ শহিদুল ইসলাম খোকনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলা মধুপুর হওয়ার কারণে তিনি সেখান থেকে এসেই অফিস করেন। তার নামে বরাদ্দকৃত বাসাটিতে ১০% বাড়ি ভাড়ার বিনিময়ে ১ম শ্রেনীর একটি বাসায় বাস করছেন অন্য কর্মচারী। এতে সরকারীভাবে ধার্যকরা মুল বেতনের ৪৫% বাড়ি ভাড়ার বদলে ১০% কর্তন দেখিয়ে সরকারকে কৌশলে ফাঁকি দিয়েছেন।
একইভাবে সিনিয়র ষ্টাপ নার্স মোসাঃ আলেয়া খাতুন প্রথম শ্রেনীর একটি ডরমেটরি বাসা দখল করে বসবাস করে আসছেন। কাগজে কলমে উক্ত বাসার ভাড়া থেকে মুল বেতনের ৪৫% কর্তন করে নেয়ার বিধান থাকলেও ১৪,৮৮০ টাকার বদলে সে ১০% কর্তন দেখিয়ে অফিস ম্যানেজ করে বসবাস করছেন। মোঃ মজিবর ড্রাইভার একটি ইউনিট একাই দখল করে দশ বছর যাবৎ বসবাস করছেন। অথচ নিয়মানুযায়ী তার নামে কোন বাসা বরাদ্দ নেই। বাসা খালি দেখিয়ে অফিসের কর্তা বাবুকে ম্যানেজ করে কোন প্রকার ভাড়া ছাড়াই বসবাস করে চলছেন। এতে করে কোন সমস্যা হ”েছনা তার। মোঃ আব্দুল হালিম নামে আরেক জন উপসহকারী (সেকমো) সরকারকে কোন ভাড়া প্রদান না করেই ৭ বছর ধরে একটি বাসা (ইউনিট) ব্যবহার করে চলছেন। জান্নাতুল ফেরদৌস নামে অপর আরেক জন সিনিয়র ষ্টাফ নার্স প্রথম শ্রেনীর একটি বাসা ১০% কর্তন দেখিয়ে ৩ বছর যাবত দখলে রেখেছেন। এভাবে একই পন্থা অবলম্বন করে আরোও অনেক তৃতীয় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীরা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নামে বরাদ্দকৃত বাসাগুলো দির্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসলেও কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই এদিকে। জনশ্রুতি রয়েছে মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে তাদেরকে এ সব সরকারী বাসা ভোগ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুর রহমান খান মিডিয়ার সামনে কথা না বলার অপারগতা প্রকাশ করে বলেন সরকারকে বাসা ভাড়া বাবদ মুল বেতনের ৪৫% কর্তন করে দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু টাকা দিয়ে এখানে কেউ থাকতে চায়না। এর অর্ধেক টাকা দিয়ে বাহিরে অনেক ভাল মানের বাসা ভাড়া পাওয়া যায়। কাজেই কেউ এখানে থাকতে চায়না। সরকারী বাসা খালি রাখার নিয়ম না থাকায় বাধ্য হয়ে তৃতীয় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের সাবলেট ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এতে দোষের কিছু নেই। আমি তাদেরকে থাকার সুযোগ করে দিয়েছি হাসপাতালের প্রয়োজনেই। তারা সর্বক্ষন কাছাকাছি থাকলে তাদের কাছ থেকে ভাল সার্পোট পাওয়া যায়। আমি যদি কিছুটা ছাড় দিয়ে তাদেরকে কাছাকাছি রাখতে পারি তাহলে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা দিতে সুবিধা হয়। কে, কোথায় থাকবে এটা একান্তই কর্তৃপক্ষের নিজস্ব এখতিয়ার। এখানে অন্যে কারো মাথা ঘামানো উচিৎ হবে না। পুরো বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। আপনার নামে বরাদ্দকৃত বাসাটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমার নামে বাসা বরাদ্দ নেই। আর এগুলো দেখাশুনা করার জন্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে। অন্য কারোও কাছে জবাব দিতে বাধ্য নই।