ঘাটাইলে বনে বেড়াতে গিয়ে ৩ স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার॥ থানায় মামলা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২০

আপডেট

ঘাটাইল প্রতিনিধি ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে তিন স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত(২৬.০১.২০২০) রোববার রাতে উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের বনের ভিতর সাতকুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার দুপুরে এক স্কুলছাত্রীর বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামী করে ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তারা সকলেই ঘাটাইল এস ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীদের ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মামলার বিবরন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত (২৬.০১.২০২০) রোববার ঘাটাইল এস ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক মিলাদ মাহফিল ছিল। চার স্কুলছাত্রী সকলেই সকালে স্কুলের উদ্যেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্ত তারা স্কুলে না গিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা ভাড়া করে তাদের দুই ছেলে বন্ধু হৃদয় ও শাহীনকে নিয়ে উপজেলার সাতকুয়া গ্রামে ঘাটাইল সেনানিবাসের ফায়ারিং রেঞ্জে এলকায় বেড়াতে যায়। দুপুর দুইটার দিকে এলাকার ৫/৬ জন অপরিচিত দুস্কৃতকারী যুবক চার স্কুলছাত্রীসহ তাদের বন্ধু ও অটোচালককে আটক করে। যুবকরা দুই বন্ধু হৃদয় ও শাহীন ও অটোচালক আশিককে মারপিট করে আহত করে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে যুবকরা তিন স্কুলছাত্রীকে বনের ভিতরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে চলে যায়। ছাত্রীদের একজন যুবকদের কাছে মা মারা গেছে বলে অনুনয় বিনয় করলে যুকরা তাকে ধর্ষণ না করেই ছেড়ে দেয়।
এদিকে ছাত্রীরা সঠিক সময় বাড়ীতে না আসায় অভিভাবকরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজিঁ করে এবং পরে বিষয়টি ঘাটাইল থানার পুলিশকে মৌখিকভাবে জানায় । এক পর্যায়ে অভিভাবকদের একজনের কাছে অপরিচিত এক ব্যাক্তি ০১৭৭১২৩৮১৯২ নম্বর থেকে ফোন করে জানায় আপনার মেয়ে খারাপ কাজ করে ধরা খাইছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ছাত্রীদের উদ্ধারে নামে । পরে রোববার গভীর রাতে উপজেলার পাহাড়িয়া এলাকার সাতকুয়া গ্রাম থেকে চার স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে আটক করে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আটককৃতদের নাম বলতে রাজি হয়নি।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ওসি মাকসুদুল আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা হয়েছে। ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ভিকটিমদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে।