টাঙ্গাইলে শাড়ির ভাজে ভাজে ইয়াবা, মূল হোতা জাকির ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০১৯
দেলদুয়ার উপজেলার সারাতৈল গ্রামে জাকিরের বাস ভবন

টাঙ্গাইল জেলাকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিতি লাভ করে দিয়েছে ‘টাঙ্গাইলের শাড়ি’। আর এই শাড়ি ব্যবসার আড়ালেই চলছে রমরমা ইয়াবা ব্যবসা। দীর্ঘদিন ধরে এ ইয়াবা ব্যবসা চললেও জানতোনা কেউ। গত ৮ অক্টোবর ঢাকার রেলওয়ে থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামীর স্বীকারোক্তিতে বের হয়ে আসে এমন তথ্য। গ্রেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তির নাম মোঃ মিঠু সিকদার (৪৫)। তিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার সরাতৈল সিকদার বাড়ির গফুর সিকদারের ছেলে।
এদিকে এ ঘটনার মূল হোতা একই গ্রামের সাহাবুদ্দিনের ছেলে মোঃ জাকির (৩০) রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে মরণ নেশা ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যবসা করে এখন তিনি কোটিপতি। খবর : বাংলা নিউজের।

সরেজমিন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার সরাতৈল গ্রামে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মিঠু আগে অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। পরে একই এলাকার জাকিরের সাথে তার সখ্য গড়ে উঠে। এ কারনে জাকিরের সাথে কাপড়ের ব্যবসায় সহযোগিতা করতে থাকেন তিনি। এর কয়েকদিন পর তার আচরন এবং আর্থিক অবস্থাও ভাল হতে থাকে। এ বিষয়ে তাকে কিছু জিজ্ঞেস করলে জাকির তাকে ভাল বেতন দেয় বলেও স্থানীয়দের জানিয়েছেন। কিন্তু গত ৮ অক্টোবর পুলিশের হাতে এক হাজার ৫০০ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারা জানতে পারেন কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসার কথা। এদিকে মিঠু গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন থেকেই জাকির পলাতক রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মিঠু পুলিশকে জানিয়েছে, কাপড়ের ভেতর ইয়াবা বহন করায় কেউ সন্দেহ করতো না। তাই দীর্ঘদিন ধরেই মোঃ জাকির কাপড়ের ভাজে ভাজে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে এসে টাঙ্গাইলসহ ঢাকায়ও সরবরাহ করতো। আর তাকে মাঝে মাঝে তিনি (মিঠু) বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতে সহযোগিতা করতেন। এতে করে তিনি মোটা অংকের টাকা পেতেন জাকিরের কাছ থেকে। আর তিনি ছাড়াও জাকিরের আরো বেশ কয়েকজন সহযোগি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আব্দুল মান্নান নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, জাকিরের বাবা সাহাবুদ্দিন প্রথমে কাপরের ব্যবসা শুরু করেন। দীর্ঘদিন ব্যবসা করার পর ছেলে মোঃ জাকিরও তার বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে জাকির কাপড়ের ব্যবসায় পারদর্শী হলে তিনি (জারিক) নিজেদের উৎপাদিত শাড়ি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতে শুরু করেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই জাকিরের চলাফেরায় অনেকটা পরিবর্তন ঘটে। সবার ধারনা জাকির কাপড়ের ব্যবসা করে ভালই লাভবান হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি তার সহযোগি গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেড়িয়ে আসে কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসার বিষয়টি।
পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কমলাপুর রেল স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে দ্রুত পালাতে চেষ্টা করে। এসময় তাকে আটক করা হয়। পরে তার সাথে থাকা কাপড়ের বান্ডিল তল্লাশী করে তাতে কাপড়ের ভাজে বিশেষ কায়দায় রাখা এক হাজার ৫০০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তখন জিজ্ঞাসাবাদে মিঠু পুলিশকে জানায় এই কাপড়ের বান্ডিল তাদের গ্রামের মোঃ জাকিরের। তিনি (জাকির) চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবাগুলো নিয়ে এসেছে। এখন তিনি তার কাছ থেকে নিয়ে ঢাকায় সরবরাহ করতে ট্রেনযোগে ঢাকায় এসেছেন। এ ঘটনায় ঢাকার রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ আব্দুল মুন্নাফ বাদি হয়ে মোঃ মিঠু ও জাকিরকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে জাকিরের বাবা সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করছে। তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরেই কাপড়ের ব্যবসার সাথে জড়িত। তবে তার ছেলে যদি সত্যিই এ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে তাহলে তিনি তার ছেলে জাকিরের শাস্তির দাবি জানান।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল হক ভুইয়া জানান, বিষয়টি রেলওয়ে থানা পুলিশের মাধ্যমে অবগত হয়ে একটি অনুসন্ধান দলের মাধ্যমে জাকিরের খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। বর্তমানে জাকির পলাতক রয়েছে।

সূত্র : বাংলা নিউজ।