নাগরপুরে ধর্ষণ মামলার বিচার চাওয়ায় চেয়ারম্যান কলেজ ছাত্রীকে বানালেন দেহ ব্যবসায়ী

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০১৯

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ধর্ষনের বিচার চাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান কলেজ ছাত্রীকে বানিয়ে দিলেন দেহ ব্যবসায়ী। এমনই ঘটনা ঘটেছে নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামে। ধুবড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান তার পরিষদের প্যাডে কলেজ ছাত্রীকে দেহ ব্যবসায়ী ও তার নিরীহ কৃষক বাবাকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে এ মাসের ৫ তারিখ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এদিকে এ ঘটনার পর কলেজ ছাত্রী লোকলজ্জার ভয়ে ১০ দিন ধরে বাড়ি হতে বাইরে বের হতে পারছেন না। বন্ধ হয়ে গেছে তার কলেজে যাওয়া। ধর্ষনের সঠিক বিচার পাবে কিনা সে বিষয় নিয়েও উদ্বিগ্ন পরিবারটি।

জানা যায়, উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের এক কৃষকের কলেজ পড়–য়া মেয়ে (১৭) কে প্রায়ই উত্যক্ত করতো সারুটিয়াগাজি গ্রামের জয়ধর শেখের ছেলে জুয়েল রানা। বিয়ের প্রস্তাবও দেয় কিন্তু ছেলের স্বভাব চরিত্র ভালো না থাকার কারনে মেয়ের বাবা সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে জুয়েল মিয়া। জুয়েল রানা ১২ জুলাই’১৮ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধুবরিয়া বাচ্চু মিয়ার ব্রিজের সামনে থেকে বন্ধুদের সহযোগিতা নিয়ে কলেজ পড়–য়া ছাত্রীকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষন করে। জুয়েল রানা তার আতœীয় বাড়ীতে তিনদিন আটকে রাখে। ঐ ছাত্রী কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে তার বাবা মা কে ঘটনাটি জানায়। পরে ধুবড়িয়া গ্রামের মাতাব্বদের ধর্ষনের বিষয়টি অবগত করেন। এ নিয়ে ঐ গ্রামের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ধর্ষনের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রভাবশালী মাতাব্বরা বিভিন্ন সময়ে তালবাহানা এবং সময়ক্ষেপন করে আসেন। ফলে ঐ ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে ১ নভেম্বর’১৮ তারিখে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল টাঙ্গাইল আদালতে ৫ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। আসামীরা হলেন, সারুটিয়াগাজির গ্রামের জয়ধর শেখের ছেলে মো. জুয়েল রানা (২২) ধুবড়িয়া গ্রামের হায়েদ আলরি ছেলে মো. শিপন, (২৬) মো. রিপন (২৩) উফাজ (৪২) একই গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার ছেলে মো. রিয়াজ মিয়া (২১)। পরে মামলা তুলে নেয়ার জন্য তারা বাদীকে বিভিন্ন ভাবে হুমকী দিয়ে আসছে। মামলার তদন্ত রিপোর্ট সিআইডি দাখিলের পর আসামীরা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠে। আসামীরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। আসামীরা ধুবড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে ধর্ষনের বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে উল্টো ঐ ভিকটিমকে দেহ ব্যবসা ও মাদক ব্যবসা আখ্যা দিয়ে আসামীদের পক্ষে একটি প্রতিবেদন দেন।
সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মামলায় কলেজ ছাত্রীর বাবা একজন হতদরিদ্র কৃষক। তিনি দিনমজুরের কাজ করেন এবং প্রবাসীর এক বাড়িতে তার স্ত্রী ও চার কন্যা সন্তান নিয়ে দুর্বিষহ বসবাস করে আসছেন। ওই কৃষকের কন্যা ২০১৮ সালে ধুবরিয়া সেফাতুল্লা উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুরে এক কলেজে লেখাপড়া করে আসছে। সেফাতুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় ঐ ছাত্রীর সঙ্গে জুয়েল রানার পরিচয় হয়। জুয়েল এই ছাত্রীকে ভালবাসার প্রস্তাব দিলে সে তা প্রত্যাখান করেন। প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করার পর ছাত্রীকে নিয়ে জুয়েল এ ঘটনাটি ঘটায়।

সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তারা ঐ কৃষক পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ও দেহ ব্যবসার কোন অভিযোগ পাননি।

এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রীর বাবা জানান, চেয়ারম্যান আমার পরিবারকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন। যা কোনভাবে কাম্য নয়। চেয়ারম্যান ও তার সন্ত্রাসীবাহিনী আমাকে গ্রাম থেকে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে এখন নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলম চাঁদ জানান, চেয়ারম্যান কলেজ ছাত্রীর বিরুদ্ধে যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তা সঠিক নয়। এ পরিবারের নামে মাদক ও দেহ ব্যবসায়ীর বিষয়ে এলাকায় ও থানায় কোন অভিযোগ নেই। এ মামলার আসামীরা মেয়ের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে আসছে। আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে এবং আসামীরা পলাতক আছে। মেয়েটির পরিবারের নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ধুবড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন , আমি ভিকটিম পরিবারকে চিনি না । তবে এলাকার লোকজনের চাপের কারনে আমি এ প্রতিবেদন দিয়েছি।