ঘাটাইলে আলোক হেলথ্ কেয়ার, ভুল চিকিৎসায় ভুল রিপোর্ট

প্রকাশিত: নভেম্বর ১২, ২০১৯

স্বাস্থ্য সেবায় ঢাকার মিরপুর কেন্দ্রিক সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান আলোক হেলথ্ কেয়ার লিমিটেড এর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল শাখায় ভুল চিকিৎসায়, ভুল রিপোর্ট দেয়ায় হয়রানীতে পড়তে হয় রোগীদের। চিকিৎসা নিতে আসা রোগিদের রোগ নিরাময় তো দূরের কথা, এখানে এসে তারা আরো নানা ভোগান্তি ও জটিলতার বেড়াজালে আটকা পড়ছেন।

জানা গেছে, এই ক্লিনিকে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও নেই দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান। প্রায় সময়ই চিকিৎসার নামে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার ভুল রিপোর্টে রোগিদেরকে জর্জরিত করে ফেলছে। এমনকি ভুল রিপোর্ট অনুযায়ী রোগীদের ঢাকার অফিসে হস্তান্তর করা হয়। ফলে ভুল রিপোর্টে আর্থিক ক্ষতির হয়রানিতে রোগিদেরকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষার নামে মোটা অংকের টাকা গুনতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে রোগির পরিবার।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের বগা গ্রামের মো. ফরিদ হোসেন বিদেশ গমনের উদ্দেশ্যে এইচবিএস পরীক্ষার জন্য গত ৪ নভেম্বর আলোক হেলথ্ কেয়ারে আসেন। পরীক্ষার রিপোর্টে তার এইচবিএস ধরা পড়ে। এইচবিএস রোগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য একই ক্লিনিকে পুনরায় টাকা জমা দিয়ে পরীক্ষা করান। দ্বিতীয় বারও তার এইচবিএস ধরা পড়ে। আতংকিত হয়ে পরদিন সকালে তিনি ময়মনসিংহ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে এইচবিএস রোগ পরীক্ষা করান। তাদের সে সব পরীক্ষা রিপোর্টে কোথাও এইচবিএস রোগ ধরা পড়েনি।

অপরদিকে, একই ইউনিয়নের লাহিড়ী বাড়ি গ্রামের শবনম মোস্তারী গত ৮ অক্টোবর ৭ মাসের গর্ভবতী হয়ে আলোক হেলথ্ কেয়ারে আসেন। চিকিৎসক তাকে আল্ট্রা করার পরামর্শ দেন। আল্ট্রা রিপোর্ট অনুযায়ী পানির পরিমান ১৩.১১ সিএম। এ রিপোর্ট দেখে ১৫ দিন পর পুনরায় আল্ট্রা করতে বলেন। যথারীতি তিনি আল্ট্রা করেন, এসময় রিপোর্টে পানির পরিমান ৯.৬৩ সিএম আসে। চিকিৎসক তখন জড়ীধফবী ইনজেকশন ব্যবহার করতে বলেন এবং এক সপ্তাহ পর আবার আল্ট্রা করতে বলেন। পরবর্তী আল্ট্রা রিপোর্টে পানির পরিমান ৭.৮৩ সিএম আসে। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক তাকে কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হসপিটালে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেন। কুমুদিনীতে আল্ট্রা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর রিপোর্টে পর্যাপ্ত পানি আছে এক্ষেত্রে রোগির কোন সমস্যা নেই। এ অবস্থায় দু’চিকিৎসকের দুই রকম রিপোর্ট হওয়াতে, তৃতীয়বার অপর একটি হাসপাতালে আল্ট্রা করানো হয়। সে পরীক্ষা রিপোর্টে পানির পরিমান সঠিক অবস্তায় রয়েছে। এ অবস্থায় আলোক হেলথ্ কেয়ারের ভুল চিকিৎসা এবং ভুল রিপোর্টের কারণে গর্ভের বাচ্চার নার্ভ উঠানামা করায় রোগিকে চরম খেসারত দিতে হয়।
এভাবে দিনের পর দিন আলোক হেলথ্ কেয়ারের ভুল রিপোটে শ’শ রোগি প্রতারিত হলেও প্রতিবাদ না করায় বাড়ছে হয়রানীর সংখ্যা।

এতে শহরের আলোক হেলথ্ কেয়ার নামের স্বাস্থ্য সেবার এ প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানটি সাধারন রোগীর জন্য হয়রানীর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে আলোক হেলথ্ কেয়ার ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, চিকিৎসক যেভাবে রিপোর্ট দিয়েছেন আমরা সেভাবে করেছি। আমার মনে হয় এতে কোন প্রকার ভুল হয়নি।

এবিষয়ে মুটোফোনে জানতে চাওয়া হলে আলোক হেলথ্ কেয়ারের পরিচালক বশির আহমেদ কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।